‹ F-6 বিবাহ অভিবাসী ভিসা তথ্য
পরিবার · বিবাহF-6

জাপানি স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ের ভিসা (F-6) পাওয়ার উপায় কী? বিয়ে নিবন্ধনের ধাপ ও কাগজপত্র

ভিত্তি: কেইভিসা প্রশাসনিক আইনজীবী কার্যালয়ের দেশভিত্তিক বিয়ের ভিসা নির্দেশিকা (2026-10-20 অনুযায়ী), আইন মন্ত্রণালয়ের বিবাহ অভিবাসী (F-6) ভিসা ইস্যুর মানদণ্ড

জাপানি স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে কোরিয়ায় একসাথে থাকতে হলে বিয়ের ভিসা (F-6) লাগবে। ধাপগুলো হলো ① কোরিয়া ও জাপান, দুই দেশেই বিয়ে নিবন্ধন করা ② কোসেকি তোহোন (戸籍謄本) সহ জাপানি কাগজপত্রে অ্যাপোস্টিল নেওয়া এবং কোরিয়ান ভাষায় অনুবাদ করা (জাপানের ক্ষেত্রে দূতাবাসের কনস্যুলার সত্যায়ন লাগে না) ③ আয়, বাসস্থান ও যোগাযোগের প্রমাণ জোগাড় করে ভিসার আবেদন করা।

এক নজরে

  • আপনাদের জন্য ভিসা: F-6 বিবাহ অভিবাসী ভিসা
  • প্রথমবার পাওয়ার মেয়াদ: সর্বোচ্চ 3 বছর, পরে নবায়ন
  • জাপানি কাগজপত্র প্রস্তুতি: অ্যাপোস্টিল + অনুবাদ
  • বিয়ে নিবন্ধন: কোরিয়া · জাপান দুই দেশেই
  • আবেদনের স্থান: স্বামী বা স্ত্রী যেখানে আছেন সেই অনুযায়ী

এক লাইনে বললে, দুই দেশে বিয়ে নিবন্ধন → কোসেকি তোহোনের অ্যাপোস্টিল ও অনুবাদ → বিয়ের ভিসার আবেদন। জাপানের কাগজপত্র প্রমাণীকরণ তুলনামূলক সহজ, তাই আপনাদের মূলত অনুবাদ ও আয়ের শর্তের দিকে নজর দিতে হবে।

প্রক্রিয়ার ধাপ

A · আগে জাপানে, জাপানে বিয়ে নিবন্ধন (婚姻届) → কোরিয়ায় জানানো

(দুজনই জাপানে থাকলে)

  1. কোরিয়ান স্বামী বা স্ত্রীর মৌলিক প্রমাণপত্র, পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণপত্র ও বিবাহ সম্পর্কের প্রমাণপত্র তুলে জাপানি ভাষায় অনুবাদ করুন।
  2. জাপানের শহর বা ওয়ার্ড অফিসে (役所) বিয়ে নিবন্ধনের ফর্ম (婚姻届) জমা দিন।
  3. গৃহীত হলে বিয়ে নিবন্ধন গ্রহণের প্রমাণপত্র নিন।
  4. এই গ্রহণের প্রমাণপত্র কোরিয়ান ভাষায় অনুবাদ করুন।
  5. 3 মাসের মধ্যে কোরিয়ার শহর বা ওয়ার্ড অফিসে অথবা জাপানে কোরিয়ার দূতাবাস বা কনস্যুলেটে জানান।

B · আগে কোরিয়ায়, কোরিয়ায় বিয়ে নিবন্ধন → জাপানে জানানো

(জাপানি স্বামী বা স্ত্রী কোরিয়ায় থাকলে)

  1. জাপানি স্বামী বা স্ত্রীর কোসেকি তোহোন (戸籍謄本) ও পাসপোর্ট প্রস্তুত করুন।
  2. কোসেকি তোহোনে অ্যাপোস্টিল নিয়ে কোরিয়ান ভাষায় অনুবাদ করুন।
  3. কোরিয়ার শহর বা ওয়ার্ড অফিসে বিয়ে নিবন্ধন করুন।
  4. বিবাহ সম্পর্কের প্রমাণপত্রের মতো কোরিয়ান কাগজপত্র জাপানি ভাষায় অনুবাদ করুন।
  5. জাপানের সরকারি অফিসে বা কোরিয়াস্থ জাপানি দূতাবাসে জানালেই শেষ।

কাগজপত্র প্রমাণীকরণের ধাপ

জাপান অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের সদস্য দেশ। তাই দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া শুধু একবার অ্যাপোস্টিল নিলেই অন্য দেশে কাগজ ব্যবহার করা যায়।

  • জাপানি কাগজ কোরিয়ায় জমা দিলে: জাপানে ইস্যু → জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাপোস্টিল → কোরিয়ান অনুবাদ → কোরিয়ায় জমা
  • কোরিয়ান কাগজ জাপানে জমা দিলে: কোরিয়ায় ইস্যু → জাপানি অনুবাদ → প্রয়োজন হলে অ্যাপোস্টিল → জাপানে জমা

ব্যবস্থার তুলনা

  • বিয়ের বয়স: কোরিয়া: নারী-পুরুষ উভয়ের পূর্ণ 18 বছর থেকে / জাপান: নারী-পুরুষ উভয়ের পূর্ণ 18 বছর থেকে
  • বিয়ে নিবন্ধনের স্থান: কোরিয়া: শহর বা ওয়ার্ড অফিস (বিদেশে দূতাবাস) / জাপান: শহর, ওয়ার্ড, শহরতলি বা গ্রামের সরকারি অফিস (役所)
  • বিদেশি কাগজ ব্যবহারের পদ্ধতি: কোরিয়া: জাপানি কাগজ → অ্যাপোস্টিল + অনুবাদ / জাপান: কোরিয়ান কাগজ → জাপানি অনুবাদ
  • পরিচয়ের কাগজ: কোরিয়া: পারিবারিক সম্পর্কের কাগজ / জাপান: কোসেকি তোহোন (戸籍謄本)
  • অন্য দেশে বিয়ে করলে: কোরিয়া: 3 মাসের মধ্যে কোরিয়ায় জানাতে হবে / জাপান: জাপানের কোসেকিতে বিয়ের তথ্য লেখা হয়

ভিসা যাচাইয়ে যা দেখা হয়

  • নির্দেশনা কর্মসূচি: জাপানি স্বামী বা স্ত্রী আন্তর্জাতিক বিয়ের নির্দেশনা কর্মসূচি সম্পন্ন করার আওতাভুক্ত দেশের নন।
  • আয়: কোরিয়ান স্বামী বা স্ত্রীর আয় নির্ধারিত মানের বেশি হতে হবে। নির্ধারিত অঙ্ক প্রতি বছর বদলায়।
  • কথা বলার সক্ষমতা: স্বামী বা স্ত্রীকে প্রাথমিক কোরিয়ান ভাষা জানতে হবে, অথবা আপনাদের দুজনের সাধারণ ভাষায় কথা বলতে পারতে হবে।
  • একসাথে থাকার বাসস্থান: আপনাদের দুজনের একসাথে থাকার মতো বাসা (নিজের, জিওনসে বা মাসিক ভাড়া) থাকতে হবে।
  • সম্পর্ক সত্যি কি না: জাপান থেকে আবেদন করলে কনস্যুলেটে সাক্ষাৎকার হতে পারে।

যেসব কারণে প্রায়ই আটকে যায়

  • আয়ের সময়কাল কম: চাকরি বদল, ফ্রিল্যান্সিং বা বিশেষ কর্মসংস্থানের কারণে সাম্প্রতিক আয়ের প্রমাণ অপর্যাপ্ত হলে
  • যোগাযোগের প্রমাণ দুর্বল: কোরিয়ান ভাষার দক্ষতা বা দুজনের সাধারণ ভাষা দেখানোর কাগজ কম থাকলে
  • অনুবাদে ভুল: কোসেকি তোহোনের অনুবাদ বাদ পড়া বা ভুল, নামের বানান না মেলা
  • সম্পর্কের রেকর্ড কম: পরিচয়ের সময় কম হলে অথবা যোগাযোগ ও দেখা করার রেকর্ড কম থাকলে

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • কোরিয়ান স্বামী বা স্ত্রী: পাসপোর্ট, মৌলিক প্রমাণপত্র, পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণপত্র, বিবাহ সম্পর্কের প্রমাণপত্র (বিস্তারিত), আয় ও কর্মসংস্থানের কাগজ, বাসস্থানের কাগজ
  • জাপানি স্বামী বা স্ত্রী: পাসপোর্ট, কোসেকি তোহোন (অ্যাপোস্টিল + অনুবাদ), অপরাধ রেকর্ড ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কাগজ (প্রয়োজন হলে)
  • দুজন একসাথে: পরিচয়ের প্রক্রিয়ার বিবরণ, ছবি ও যোগাযোগের রেকর্ড, কথা বলতে পারার প্রমাণ
  • যাচাইয়ের পদ্ধতি: জাপানি কাগজে অ্যাপোস্টিল + কোরিয়ান অনুবাদ, কোরিয়ান কাগজে জাপানি অনুবাদ

জেনে রাখার শব্দ

  • অ্যাপোস্টিল: দূতাবাসে না গিয়েও কাগজ আসল বলে স্বীকৃতি পাওয়ার সহজ যাচাই। জাপান এই পদ্ধতি ব্যবহার করে।
  • কোসেকি তোহোন (戸籍謄本): জাপানের পারিবারিক সম্পর্কের রেকর্ড। কোরিয়ার পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণপত্রের মতো।
  • বিয়ে নিবন্ধন গ্রহণের প্রমাণপত্র: জাপানের সরকারি অফিস বিয়ে নিবন্ধন গ্রহণ করেছে, এই মর্মে প্রমাণপত্র। কোরিয়ায় জানানোর সময় লাগে।
  • ভিসা ইস্যু নিশ্চিতকরণ পত্র: কোরিয়ায় থাকা স্বামী বা স্ত্রী আগে থেকে ভিসার অনুমোদন নিয়ে রাখার কাগজ। এটি দিয়ে জাপানে দ্রুত ভিসা পাওয়া যায়।

সাধারণ প্রশ্ন

প্রশ্ন: জাপানি স্ত্রীকে কোরিয়ায় আনতে হলে কী করব?

দুই দেশে বিয়ে নিবন্ধন শেষ করার পর কোরিয়ায় ভিসা ইস্যু নিশ্চিতকরণ পত্র নিন, অথবা জাপানে কোরিয়ার দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলে বিয়ের ভিসা (F-6) এর আবেদন করুন। স্বামী বা স্ত্রী যদি আগে থেকেই কোরিয়ায় থাকেন, তাহলে ইমিগ্রেশন অফিসে বিয়ের ভিসায় পরিবর্তন করা যাবে কি না দেখুন। ভিসা পেলে স্বামী বা স্ত্রী কোরিয়ায় ঢুকে বিদেশি নিবন্ধন করবেন।

প্রশ্ন: জাপানি বিয়ের ভিসার জন্য কী কী কাগজ লাগে?

কোরিয়ান স্বামী বা স্ত্রীর লাগবে পাসপোর্ট, মৌলিক, পারিবারিক সম্পর্ক ও বিবাহ সম্পর্কের প্রমাণপত্র (বিস্তারিত), আয় ও কর্মসংস্থানের কাগজ এবং বাসস্থানের কাগজ। জাপানি স্বামী বা স্ত্রীর লাগবে পাসপোর্ট ও কোসেকি তোহোন। কোসেকি তোহোনে অ্যাপোস্টিল নিয়ে কোরিয়ান ভাষায় অনুবাদ করতে হবে। অপরাধ রেকর্ড ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কাগজ প্রয়োজন হলে যোগ করুন, আর আপনাদের পরিচয়ের প্রক্রিয়ার বিবরণ এবং ছবি ও যোগাযোগের রেকর্ডও জমা দিন।

প্রশ্ন: জাপানি কাগজেও কি দূতাবাসের কনস্যুলার সত্যায়ন লাগবে?

না। জাপান অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের সদস্য দেশ, তাই জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাপোস্টিল নিয়ে কোরিয়ান ভাষায় অনুবাদ করলেই চলবে। দূতাবাসের কনস্যুলার সত্যায়ন লাগবে না।

প্রশ্ন: আমি আগে জাপানে বিয়ে করেছি। কোরিয়ায় কত দিনের মধ্যে জানাতে হবে?

3 মাসের মধ্যে জানাতে হবে। জাপানের সরকারি অফিসের বিয়ে নিবন্ধন গ্রহণের প্রমাণপত্র অনুবাদ করে কোরিয়ার শহর বা ওয়ার্ড অফিসে অথবা জাপানে কোরিয়ার কূটনৈতিক মিশনে জমা দিন।

সূত্র ও ভিত্তি

  1. 케이비자 행정사사무소 · 국가별 결혼비자 안내 (일본)তথ্যসূত্র: পরিসংখ্যান কোরিয়ার 2024 সালের বিয়ের পরিসংখ্যান (কোরিয়ান পুরুষ ও জাপানি নারীর বিয়ে 1,176টি), আইন মন্ত্রণালয়ের বিবাহ অভিবাসী (F-6) ভিসা ইস্যুর মানদণ্ড, পারিবারিক সম্পর্কের নিবন্ধন সংক্রান্ত আইন (বিদেশে হওয়া বিয়ের নিবন্ধন), জাপানের দেওয়ানি আইন। বিস্তারিত মানদণ্ড আইন ও বিজ্ঞপ্তির সংশোধন অনুযায়ী বদলাতে পারে। ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে পরামর্শের সময় নিশ্চিত করুন।
নিজের ভিসা ও মেয়াদ অনুযায়ী আবার জিজ্ঞেস করুনআপনার অবস্থানের তথ্য দিলে তারিখ, সংশ্লিষ্ট অভিবাসন অফিস আর দরকারি কাগজ পর্যন্ত আপনার অবস্থা অনুযায়ী উত্তর পাবেন।আমার অবস্থা অনুযায়ী জিজ্ঞেস

সম্পর্কিত প্রশ্ন

F-6 বিবাহ অভিবাসী ভিসায় কী কাজ করা যায় এবং কী করা যায় না?F-6 বিবাহ অভিবাসীর অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন কখন থেকে, কোন কোন কাগজপত্র দিয়ে করতে হয়?আমি কি F-6 বিবাহ অভিবাসী ভিসা থেকে অন্য ভিসায় বদলাতে পারি?F-6 বিবাহ অভিবাসী যদি স্বামী/স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেন বা আলাদা থাকেন, তাহলে ভিসার কী হবে?F-6 বিবাহ অভিবাসী কয়েক মাসের জন্য নিজের দেশে ঘুরে এলে কি ভিসা বাড়াতে সমস্যা হয়?

K-VISA AI আইন মন্ত্রণালয়ের ম্যানুয়াল, আইন ও সরকারি সংস্থার নির্দেশনার ভিত্তিতে গোছানো সাধারণ তথ্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ HiKorea বা বিদেশি তথ্য কেন্দ্রে (1345) করুন।