‹ F-6 বিবাহ অভিবাসী ভিসা তথ্য
পরিবার · বিবাহF-6

ইন্দোনেশীয় স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ ভিসা (F-6) পাওয়ার উপায় কী? বিবাহ নিবন্ধনের ধাপ ও কাগজপত্র

ভিত্তি: কেবিসা প্রশাসনিক কর্মকর্তা অফিসের (케이비자 행정사사무소) দেশভিত্তিক বিবাহ ভিসা নির্দেশিকা (২০২৬-১০-২০ অনুযায়ী), বিচার মন্ত্রণালয়ের (법무부) বিবাহ অভিবাসী (F-6) ভিসা ইস্যুর মানদণ্ড

ইন্দোনেশীয় স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে কোরিয়ায় একসঙ্গে থাকতে হলে বিবাহ ভিসা (F-6) লাগবে। ধাপগুলো হলো: ① কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া, দুই দেশেই বিবাহ নিবন্ধন করা (ইন্দোনেশিয়া শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হওয়া বিয়েকে স্বীকৃতি দেয়) ② ইন্দোনেশিয়ার কাগজে অ্যাপোস্টিল ও কোরীয় অনুবাদ করানো (২০২২ সাল থেকে দূতাবাসের কনসুলার যাচাই লাগে না) ③ আয়, বাসস্থান ও যোগাযোগের প্রমাণ গুছিয়ে ভিসার আবেদন করা।

এক নজরে

  • আপনারা দুজন যে ভিসা পাবেন: F-6 বিবাহ অভিবাসী ভিসা
  • প্রথমবার পাওয়ার মেয়াদ: সর্বোচ্চ ৩ বছর, পরে নবায়ন
  • ইন্দোনেশীয় কাগজ প্রস্তুত: অ্যাপোস্টিল + অনুবাদ
  • বিবাহ নিবন্ধন: কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া, দুই দেশেই
  • আবেদনের স্থান: স্বামী বা স্ত্রী যেখানে আছেন, সেই অনুযায়ী

এক লাইনে বললে, দুই দেশে বিবাহ নিবন্ধন → অ্যাপোস্টিল ও অনুবাদ → বিবাহ ভিসার আবেদন। ইন্দোনেশিয়া শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হওয়া বিয়েকে স্বীকৃতি দেয়, তাই আগে আপনাদের দুজনের ধর্ম অনুযায়ী নিয়ম দেখে নিন।

প্রক্রিয়ার ধাপ

A · আগে ইন্দোনেশিয়ায়, ইন্দোনেশিয়ায় বিয়ে → কোরিয়ায় নিবন্ধন

(যখন আপনারা দুজনেই ইন্দোনেশিয়ায় একসঙ্গে থাকতে পারেন)

  1. দুজন একসঙ্গে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থিত কোরীয় দূতাবাসের কনসুলার বিভাগে গিয়ে কোরীয় স্বামী বা স্ত্রীর অবিবাহিত থাকার প্রত্যয়নপত্র নিন।
  2. আপনাদের দুজনের ধর্ম অনুযায়ী নিয়ম ঠিক করুন। মুসলিম হলে ধর্ম অফিস (KUA), অন্য ধর্মের হলে অনুষ্ঠানের পর নাগরিক নিবন্ধন অফিসে নিবন্ধন করুন।
  3. ধর্মীয় অনুষ্ঠান করে বিয়ে নিবন্ধন করুন এবং বিবাহ সনদ নিন।
  4. বিবাহ সনদে অ্যাপোস্টিল নিন এবং কোরীয় ভাষায় অনুবাদ করুন।
  5. ৩ মাসের মধ্যে কোরিয়ার শহর বা জেলা অফিসে (시·구청) অথবা দূতাবাসে নিবন্ধন করুন।

B · আগে কোরিয়ায়, কোরিয়ায় বিবাহ নিবন্ধন → ইন্দোনেশিয়ায় নিবন্ধন

(যখন ইন্দোনেশীয় স্বামী বা স্ত্রী কোরিয়ায় আছেন)

  1. ইন্দোনেশীয় স্বামী বা স্ত্রীর অবিবাহিত থাকার প্রমাণপত্র, জন্মসংক্রান্ত কাগজ, পারিবারিক কাগজ ও পাসপোর্ট প্রস্তুত করুন।
  2. ইন্দোনেশিয়ার কাগজে অ্যাপোস্টিল নিন এবং কোরীয় ভাষায় অনুবাদ করুন।
  3. কোরিয়ায় ইন্দোনেশিয়ান দূতাবাস ইত্যাদিতে বিয়ের শর্তসংক্রান্ত কাগজ লাগবে কি না জেনে নিন।
  4. কোরিয়ার শহর বা জেলা অফিসে (시·구청) বিবাহ নিবন্ধন করুন।
  5. বিবাহ সম্পর্কের সনদে অ্যাপোস্টিল নিন, অনুবাদ করুন এবং ইন্দোনেশিয়াতেও বিয়ের তথ্য নিবন্ধন করুন।

কাগজ প্রত্যয়নের ধাপ

ইন্দোনেশিয়ায় ২০২২ সালের জুন থেকে অ্যাপোস্টিল কনভেনশন কার্যকর। তাই দূতাবাসের যাচাই ছাড়া একবার অ্যাপোস্টিল নিলেই অন্য দেশে ব্যবহার করা যায়।

  • ইন্দোনেশীয় কাগজ কোরিয়ায় জমা দিলে: ইন্দোনেশিয়ায় ইস্যু → ইন্দোনেশিয়ার আইন মন্ত্রণালয়ের অ্যাপোস্টিল → কোরীয় অনুবাদ → কোরিয়ায় জমা
  • কোরীয় কাগজ ইন্দোনেশিয়ায় জমা দিলে: কোরিয়ায় ইস্যু → কোরিয়ার অ্যাপোস্টিল (প্রবাসী কোরীয় সংস্থা, 재외동포청) → ইন্দোনেশীয় ভাষায় অনুবাদ → ইন্দোনেশিয়ায় জমা

ব্যবস্থার তুলনা

  • বিয়ের বয়স: কোরিয়া: নারী-পুরুষ দুজনেরই পূর্ণ ১৮ বছর থেকে / ইন্দোনেশিয়া: নারী-পুরুষ দুজনেরই পূর্ণ ১৯ বছর থেকে
  • বিবাহ নিবন্ধনের স্থান: কোরিয়া: শহর বা জেলা অফিস (বিদেশে দূতাবাস) / ইন্দোনেশিয়া: ধর্ম অফিস (KUA) বা নাগরিক নিবন্ধন অফিস
  • বিদেশি কাগজ ব্যবহারের নিয়ম: কোরিয়া: ইন্দোনেশীয় কাগজ → অ্যাপোস্টিল + অনুবাদ / ইন্দোনেশিয়া: কোরীয় কাগজ → অ্যাপোস্টিল + ইন্দোনেশীয় ভাষায় অনুবাদ
  • বিয়ের পদ্ধতি: কোরিয়া: কাগজ জমা দিয়ে নিবন্ধন / ইন্দোনেশিয়া: ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলে তবেই স্বীকৃত
  • অন্য দেশে বিয়ে করলে: কোরিয়া: ৩ মাসের মধ্যে কোরিয়ায় নিবন্ধন / ইন্দোনেশিয়া: ইন্দোনেশিয়ায় বিয়ের তথ্য নিবন্ধন

ভিসা পর্যালোচনায় যা দেখা হয়

  • নির্দেশনা প্রোগ্রাম: ইন্দোনেশীয় স্বামী বা স্ত্রী আন্তর্জাতিক বিবাহ নির্দেশনা প্রোগ্রাম সম্পন্ন করার আওতাভুক্ত দেশের নন।
  • আয়: কোরীয় স্বামী বা স্ত্রীর আয় নির্ধারিত মানের বেশি হতে হবে। নির্ধারিত অঙ্ক প্রতি বছর বদলায়।
  • যোগাযোগের সক্ষমতা: স্বামী বা স্ত্রীকে প্রাথমিক কোরীয় ভাষা বলতে হবে, অথবা আপনাদের দুজনের একই ভাষায় কথা বলতে পারতে হবে।
  • একসঙ্গে থাকার বাসস্থান: দুজনের একসঙ্গে থাকার মতো বাসা (নিজের, জিওনসে বা মাসিক ভাড়া) থাকতে হবে।
  • সম্পর্ক আসল কি না: ইন্দোনেশিয়া থেকে আবেদন করলে দম্পতির সাক্ষাৎকার হতে পারে।

যেসব কারণে প্রায়ই আটকে যায়

  • ধর্মীয় নিয়ম জানা ছিল না: আপনাদের দুজনের ধর্ম অনুযায়ী বিয়ের নিয়ম দেরিতে জেনে ধাপগুলো নতুন করে সাজাতে হয়েছে
  • সম্পর্কের রেকর্ড কম: পরিচয়ের সময় কম, অথবা যোগাযোগ ও দেখা করার রেকর্ড কম
  • যোগাযোগের প্রমাণ দুর্বল: কোরীয় ভাষার দক্ষতা বা একসঙ্গে ব্যবহৃত ভাষা দেখানোর কাগজ কম
  • নিজে প্রস্তুত করতে গিয়ে ভুল হয়েছে: অ্যাপোস্টিল বাদ পড়া, অনুবাদে ভুল, নামের বানানে অমিল, মেয়াদ পেরোনো কাগজ

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • কোরীয় স্বামী বা স্ত্রী: পাসপোর্ট, মূল পরিচয়পত্র (기본증명서), পারিবারিক সম্পর্কের সনদ (가족관계증명서), বিবাহ সম্পর্কের সনদ (বিস্তারিত), স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ, আয় ও কর্মসংক্রান্ত কাগজ, বাসস্থানের কাগজ
  • ইন্দোনেশীয় স্বামী বা স্ত্রী: পাসপোর্ট, অবিবাহিত থাকার প্রমাণপত্র, জন্ম ও পরিবার সংক্রান্ত কাগজ, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ, অপরাধ রেকর্ডের কাগজ (প্রয়োজন হলে)
  • দুজনের একসঙ্গে: পরিচয়ের প্রক্রিয়ার বিবরণী, ছবি ও যোগাযোগের রেকর্ড, কথা বলতে পারার প্রমাণ
  • যাচাইয়ের পদ্ধতি: ইন্দোনেশীয় কাগজ অ্যাপোস্টিল + কোরীয় অনুবাদ, কোরীয় কাগজ অ্যাপোস্টিল + ইন্দোনেশীয় ভাষায় অনুবাদ

জেনে রাখার শব্দ

  • অ্যাপোস্টিল: দূতাবাসে না গিয়েও কাগজ আসল বলে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রত্যয়ন। ইন্দোনেশিয়া ২০২২ সাল থেকে এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে।
  • ধর্ম অফিস (KUA): মুসলিম দম্পতির বিয়ে নিবন্ধনের ইন্দোনেশীয় সংস্থা।
  • নাগরিক নিবন্ধন অফিস: অমুসলিম দম্পতি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পর যেখানে বিয়ে নিবন্ধন করেন। স্থানীয়ভাবে একে 'দুকাপসিল' বলা হয়।
  • ভিসা ইস্যু নিশ্চিতকরণ পত্র (사증발급인정서): কোরিয়ায় থাকা স্বামী বা স্ত্রী আগে থেকে ভিসার অনুমোদন নিয়ে রাখেন, এমন কাগজ। এতে ইন্দোনেশিয়ায় দ্রুত ভিসা পাওয়া যায়।

সাধারণ প্রশ্ন

প্রশ্ন: ইন্দোনেশীয় স্ত্রীকে কোরিয়ায় আনতে কী করতে হবে?

দুই দেশের বিবাহ নিবন্ধন শেষ হলে কোরিয়ায় ভিসা ইস্যু নিশ্চিতকরণ পত্র (사증발급인정서) নিন, অথবা জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়াস্থ কোরীয় দূতাবাসে বিবাহ ভিসা (F-6)-এর আবেদন করুন। ভিসা হলে স্বামী বা স্ত্রী কোরিয়ায় এসে বিদেশি নিবন্ধন করবেন।

প্রশ্ন: ইন্দোনেশিয়ার বিবাহ ভিসার জন্য কী কী কাগজ লাগে?

কোরীয় স্বামী বা স্ত্রীর লাগবে পাসপোর্ট, মূল পরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক ও বিবাহ সম্পর্কের সনদ (বিস্তারিত), আয় ও কর্মসংক্রান্ত কাগজ এবং বাসস্থানের কাগজ। ইন্দোনেশীয় স্বামী বা স্ত্রীর লাগবে পাসপোর্ট, অবিবাহিত থাকার প্রমাণপত্র এবং জন্ম ও পরিবার সংক্রান্ত কাগজ। ইন্দোনেশীয় কাগজে অ্যাপোস্টিল নিয়ে কোরীয় ভাষায় অনুবাদ করতে হবে। আপনাদের পরিচয়ের প্রক্রিয়ার বিবরণী এবং ছবি ও যোগাযোগের রেকর্ডও জমা দিন।

সূত্র ও ভিত্তি

  1. 케이비자 행정사사무소 · 국가별 결혼비자 안내 (인도네시아)তথ্যসূত্র: বিচার মন্ত্রণালয়ের (법무부) বিবাহ অভিবাসী (F-6) ভিসা ইস্যুর মানদণ্ড, পারিবারিক সম্পর্ক নিবন্ধন সংক্রান্ত আইন (বিদেশে হওয়া বিয়ের নিবন্ধন), ইন্দোনেশিয়ার বিবাহ আইন (১৯৭৪ সালের নং ১, ২০১৯ সালের সংশোধনে বিয়ের বয়স ১৯ বছর), হেগ আন্তর্জাতিক বেসরকারি আইন সম্মেলনের (HCCH) অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে যোগদানকারী দেশের তালিকা (ইন্দোনেশিয়ায় ২০২২ সালের জুনে কার্যকর)। আইন ও প্রজ্ঞাপন সংশোধনের কারণে বিস্তারিত মানদণ্ড বদলাতে পারে। ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে পরামর্শের সময় যাচাই করে নিন।
নিজের ভিসা ও মেয়াদ অনুযায়ী আবার জিজ্ঞেস করুনআপনার অবস্থানের তথ্য দিলে তারিখ, সংশ্লিষ্ট অভিবাসন অফিস আর দরকারি কাগজ পর্যন্ত আপনার অবস্থা অনুযায়ী উত্তর পাবেন।আমার অবস্থা অনুযায়ী জিজ্ঞেস

সম্পর্কিত প্রশ্ন

F-6 বিবাহ অভিবাসী ভিসায় কী কাজ করা যায় এবং কী করা যায় না?F-6 বিবাহ অভিবাসীর অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন কখন থেকে, কোন কোন কাগজপত্র দিয়ে করতে হয়?আমি কি F-6 বিবাহ অভিবাসী ভিসা থেকে অন্য ভিসায় বদলাতে পারি?F-6 বিবাহ অভিবাসী যদি স্বামী/স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেন বা আলাদা থাকেন, তাহলে ভিসার কী হবে?F-6 বিবাহ অভিবাসী কয়েক মাসের জন্য নিজের দেশে ঘুরে এলে কি ভিসা বাড়াতে সমস্যা হয়?

K-VISA AI আইন মন্ত্রণালয়ের ম্যানুয়াল, আইন ও সরকারি সংস্থার নির্দেশনার ভিত্তিতে গোছানো সাধারণ তথ্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ HiKorea বা বিদেশি তথ্য কেন্দ্রে (1345) করুন।