অস্ট্রেলিয়ান স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ ভিসা (F-6) কীভাবে পাবেন? বিয়ে নিবন্ধনের ধাপ ও কাগজপত্র
ভিত্তি: কেবিসা প্রশাসনিক আইনজীবী কার্যালয়ের (케이비자 행정사사무소) দেশভিত্তিক বিবাহ ভিসা নির্দেশিকা (২০২৬-১০-২০ অনুযায়ী), বিচার মন্ত্রণালয়ের (법무부) বিবাহ অভিবাসন (F-6) ভিসা ইস্যুর মানদণ্ডঅস্ট্রেলিয়ান স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে কোরিয়ায় একসঙ্গে থাকতে চাইলে বিবাহ ভিসা (F-6, স্বামী/স্ত্রী ভিসা) লাগবে। ধাপগুলো হলো ① কোরিয়া বা অস্ট্রেলিয়ায় বিয়ে করা (আগে অস্ট্রেলিয়ায় বিয়ে করলে ৩ মাসের মধ্যে কোরিয়াতেও জানাতে হবে) ② অস্ট্রেলিয়ার কাগজে অ্যাপোস্টিল ও কোরিয়ান ভাষায় অনুবাদ (অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে দূতাবাসের কনস্যুলার সত্যায়ন লাগে না) ③ আয়, বাসস্থান ও যোগাযোগের শর্ত পূরণ করে ভিসার আবেদন করা।
এক নজরে
- আপনারা দুজন যে ভিসা পাবেন: F-6 বিবাহ অভিবাসন (স্বামী/স্ত্রী) ভিসা
- প্রথমবার পাওয়ার মেয়াদ: সর্বোচ্চ ৩ বছর, পরে বাড়ানো যায়
- অস্ট্রেলিয়ার কাগজ প্রস্তুত: অ্যাপোস্টিল + কোরিয়ান অনুবাদ
- বিয়ে নিবন্ধন: কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া দুই দেশেই বৈধ হতে হবে
- আবেদনের স্থান: স্বামী বা স্ত্রী যেখানে আছেন সেই অনুযায়ী
এক লাইনে বললে, কোরিয়া বা অস্ট্রেলিয়ায় বিয়ে → অ্যাপোস্টিল ও অনুবাদ → বিবাহ ভিসার আবেদন। অস্ট্রেলিয়ায় বিয়ে করলে বিয়ের ১ মাস আগে বিয়ের নোটিশ (NOIM) জমা দেওয়ার সময়টা আগে থেকেই পরিকল্পনায় রাখতে হবে।
প্রক্রিয়ার ধাপ
A · আগে অস্ট্রেলিয়ায়, অস্ট্রেলিয়ায় বিয়ে → কোরিয়ায় নিবন্ধন
(যখন আপনারা দুজন অস্ট্রেলিয়ায় একসঙ্গে থাকতে পারেন)
- অনুমোদিত বিবাহ নিবন্ধক (celebrant) ঠিক করুন এবং বিয়ের অন্তত ১ মাস আগে বিয়ের নোটিশ (NOIM) জমা দিন।
- দুজনের পাসপোর্ট ও জন্ম সংক্রান্ত কাগজ দিয়ে পরিচয় যাচাই করান।
- নিবন্ধকের সামনে বিয়ের অনুষ্ঠান করুন। বিয়েটি রাজ্যের নিবন্ধন অফিসে (BDM) নথিভুক্ত হবে।
- রাজ্যের নিবন্ধন অফিস থেকে বিয়ের সনদ নিয়ে অ্যাপোস্টিল ও কোরিয়ান অনুবাদ করান।
- ৩ মাসের মধ্যে কোরিয়ার সিটি/গু অফিসে বা অস্ট্রেলিয়ায় কোরিয়ার দূতাবাসে জানান।
B · আগে কোরিয়ায়, কোরিয়ায় বিয়ে নিবন্ধন
(যখন অস্ট্রেলিয়ান স্বামী বা স্ত্রী কোরিয়ায় আছেন)
- অস্ট্রেলিয়ান স্বামী বা স্ত্রীর পাসপোর্ট ও জন্ম সনদ প্রস্তুত করুন।
- অস্ট্রেলিয়ার কাগজে অ্যাপোস্টিল নিন এবং কোরিয়ান ভাষায় অনুবাদ করুন।
- অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (DFAT) বা কোরিয়াস্থ অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসে জেনে নিন, বিয়ের বাধা নেই প্রত্যয়নপত্র (CNI) লাগবে কি না।
- কোরিয়ার সিটি/গু অফিসে বিয়ে নিবন্ধন করুন।
- বিবাহ সম্পর্কের সনদ (혼인관계증명서) ইংরেজিতে অনুবাদ করে অ্যাপোস্টিল নিয়ে রাখুন। অস্ট্রেলিয়ার দিকেও এটি কাজে লাগে।
কাগজ সত্যায়নের ধাপ
অস্ট্রেলিয়া অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের সদস্য। তাই দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া একটিমাত্র অ্যাপোস্টিল দিয়েই অন্য দেশে কাগজ ব্যবহার করা যায়।
- অস্ট্রেলিয়ার কাগজ কোরিয়ায় জমা দিলে: রাজ্যের নিবন্ধন অফিস থেকে ইস্যু → অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (DFAT) থেকে অ্যাপোস্টিল → কোরিয়ান অনুবাদ → কোরিয়ায় জমা
- কোরিয়ার কাগজ অস্ট্রেলিয়ায় জমা দিলে: কোরিয়ায় ইস্যু → প্রবাসী কোরিয়ান বিষয়ক সংস্থা (재외동포청) থেকে অ্যাপোস্টিল → ইংরেজি অনুবাদ → অস্ট্রেলিয়ায় জমা
ব্যবস্থার তুলনা
- বিয়ের বয়স: কোরিয়া: নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য পূর্ণ ১৮ বছর থেকে / অস্ট্রেলিয়া: পূর্ণ ১৮ বছর থেকে (১৬-১৭ বছরে আদালতের অনুমতিতে ব্যতিক্রম)
- বিয়ে নিবন্ধনের স্থান: কোরিয়া: সিটি/গু অফিস (বিদেশে দূতাবাস) / অস্ট্রেলিয়া: অনুমোদিত বিবাহ নিবন্ধকের (celebrant) সামনে বিয়ের পর রাজ্যের নিবন্ধন অফিসে (BDM) নথিভুক্তি
- বিদেশি কাগজ ব্যবহারের নিয়ম: কোরিয়া: অস্ট্রেলিয়ার কাগজ → অ্যাপোস্টিল + কোরিয়ান অনুবাদ / অস্ট্রেলিয়া: কোরিয়ার কাগজ → অ্যাপোস্টিল + ইংরেজি অনুবাদ
- বিয়ের পদ্ধতি: কোরিয়া: কাগজ জমা দিয়ে নিবন্ধন / অস্ট্রেলিয়া: বিয়ের ১ মাস আগে বিয়ের নোটিশ জমা দিয়ে তারপর অনুষ্ঠান
- অন্য দেশে বিয়ে করলে: কোরিয়া: ৩ মাসের মধ্যে কোরিয়ায় জানাতে হবে / অস্ট্রেলিয়া: যে দেশে বিয়ে হয়েছে সেখানকার আইনে বৈধ হলে স্বীকৃত
ভিসা যাচাইয়ে যা দেখা হয়
- নির্দেশনা কর্মসূচি: অস্ট্রেলিয়ান স্বামী বা স্ত্রী আন্তর্জাতিক বিয়ের নির্দেশনা কর্মসূচি সম্পন্ন করার দেশগুলোর মধ্যে পড়েন না।
- আয়: কোরিয়ান স্বামী বা স্ত্রীর আয় নির্ধারিত মানের বেশি হতে হবে। এই অঙ্ক প্রতি বছর বদলায়।
- যোগাযোগের সক্ষমতা: স্বামী বা স্ত্রীকে প্রাথমিক কোরিয়ান ভাষা জানতে হবে, অথবা আপনারা দুজন যে ভাষা একসঙ্গে ব্যবহার করেন তাতে কথা বলতে পারতে হবে।
- একসঙ্গে থাকার বাসস্থান: আপনারা দুজন একসঙ্গে থাকার মতো বাসস্থান (নিজের বাড়ি, জন-সে, মাসিক ভাড়া) থাকতে হবে।
- সম্পর্ক প্রকৃত কি না: অস্ট্রেলিয়া থেকে আবেদন করলে দূতাবাসে সাক্ষাৎকার হতে পারে।
যেসব কারণে প্রায়ই আটকে যায়
- বিয়ের নোটিশ দেরিতে জমা দেওয়া: ১ মাসের সময়ের কথা না ভেবে বিয়ের তারিখ ও যাত্রার সময়সূচি ঠিক করা হলে
- আয় ও বাসস্থানের কাগজ অস্পষ্ট: আয়ের সময়কাল কম হলে বা বাসস্থানের প্রমাণ পরিষ্কার না হলে
- যোগাযোগের প্রমাণ দুর্বল: কোরিয়ান ভাষার দক্ষতা বা একসঙ্গে ব্যবহৃত ভাষা দেখানোর তথ্য কম হলে
- ভুল কাগজ নেওয়া: রাজ্যের নিবন্ধন অফিসের সনদের বদলে অন্য সনদ দিলে, অ্যাপোস্টিল বাদ গেলে, অনুবাদে ভুল থাকলে
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- কোরিয়ান স্বামী বা স্ত্রী: পাসপোর্ট, মৌলিক সনদ (기본증명서), পারিবারিক সম্পর্ক সনদ (가족관계증명서), বিবাহ সম্পর্কের সনদ (혼인관계증명서, বিস্তারিত), আয় ও কর্মসংস্থানের কাগজ, বাসস্থানের কাগজ
- অস্ট্রেলিয়ান স্বামী বা স্ত্রী: পাসপোর্ট, জন্ম সনদ ও বিয়ের সনদ (অ্যাপোস্টিল + অনুবাদ), অপরাধের রেকর্ডের কাগজ (প্রয়োজন হলে)
- দুজন একসঙ্গে: পরিচয়ের ঘটনার বিবরণ, ছবি ও যোগাযোগের রেকর্ড, যোগাযোগ করতে পারার প্রমাণ
- যাচাইয়ের উপায়: অস্ট্রেলিয়ার কাগজে অ্যাপোস্টিল + কোরিয়ান অনুবাদ, কোরিয়ার কাগজে অ্যাপোস্টিল + ইংরেজি অনুবাদ
জেনে রাখার শব্দ
- বিয়ের নোটিশ (NOIM): অস্ট্রেলিয়ায় বিয়ের আগে নিবন্ধকের কাছে জমা দেওয়া ফর্ম। বিয়ের অনুষ্ঠানের অন্তত ১ মাস আগে জমা দিতে হয়।
- রাজ্যের নিবন্ধন অফিস (BDM): জন্ম, বিয়ে ও মৃত্যুর রেকর্ড দেখাশোনা করে রাজ্য সরকারের এমন একটি সংস্থা। কোরিয়ায় জমা দেওয়ার বিয়ের সনদ এখান থেকে নিতে হয়।
- অ্যাপোস্টিল: দূতাবাসে না গিয়েও কাগজ আসল বলে স্বীকৃতি পাওয়ার সত্যায়ন। অস্ট্রেলিয়া ও কোরিয়া দুই দেশই এই পদ্ধতি ব্যবহার করে।
- ভিসা ইস্যু নিশ্চিতকরণপত্র (사증발급인정서): কোরিয়ায় থাকা স্বামী বা স্ত্রী আগেই ভিসার অনুমোদন নিয়ে রাখার কাগজ। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে দ্রুত ভিসা পাওয়া যায়।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্র. অস্ট্রেলিয়ান স্বামীকে কোরিয়ায় আনতে হলে কী করতে হবে?
দুই দেশে বিয়ে বৈধ হয়ে গেলে কোরিয়ায় ভিসা ইস্যু নিশ্চিতকরণপত্র (사증발급인정서) নিন, অথবা অস্ট্রেলিয়ায় কোরিয়ার দূতাবাসে বিবাহ ভিসার (F-6) আবেদন করুন। স্বামী আগে থেকেই কোরিয়ায় থাকলে অভিবাসন অফিসে জেনে নিন বিবাহ ভিসায় পরিবর্তন করা যায় কি না। ভিসা পেলে দেশে ঢুকে বিদেশি নিবন্ধন করলেই হবে।
প্র. অস্ট্রেলিয়ান স্বামী/স্ত্রী ভিসার জন্য কী কী কাগজ লাগে?
কোরিয়ান স্বামী বা স্ত্রীর পাসপোর্ট, মৌলিক সনদ, পারিবারিক সম্পর্ক সনদ, বিবাহ সম্পর্কের সনদ (বিস্তারিত), আয় ও কর্মসংস্থানের কাগজ এবং বাসস্থানের কাগজ লাগে। অস্ট্রেলিয়ান স্বামী বা স্ত্রীর পাসপোর্ট, জন্ম সনদ ও রাজ্যের নিবন্ধন অফিসের বিয়ের সনদ লাগে, আর অস্ট্রেলিয়ার কাগজে অ্যাপোস্টিল ও কোরিয়ান অনুবাদ নিতে হয়। দুজনের পরিচয়ের ঘটনার বিবরণ এবং ছবি ও যোগাযোগের রেকর্ডও একসঙ্গে জমা দিতে হয়।
প্র. বিয়ে নিবন্ধন কি আগে কোরিয়ায়, নাকি অস্ট্রেলিয়ায় করতে হবে?
দুটোই সম্ভব। আপনারা দুজন অস্ট্রেলিয়ায় একসঙ্গে থাকলে আগে অস্ট্রেলিয়ায়, আর স্বামী কোরিয়ায় থাকলে আগে কোরিয়ায় করার ঘটনাই বেশি। আগে অস্ট্রেলিয়ায় বিয়ে করে থাকলে ৩ মাসের মধ্যে কোরিয়াতেও জানাতে হবে।
সূত্র ও ভিত্তি
- 케이비자 행정사사무소 · 국가별 결혼비자 안내 (호주)তথ্যসূত্র: বিচার মন্ত্রণালয়ের (법무부) বিবাহ অভিবাসন (F-6) ভিসা ইস্যুর মানদণ্ড, পারিবারিক সম্পর্ক নিবন্ধন আইন (가족관계의 등록 등에 관한 법률, বিদেশে হওয়া বিয়ের নিবন্ধন), অস্ট্রেলিয়ার বিবাহ আইন (Marriage Act 1961), বিদেশি সরকারি নথির সত্যায়ন বাতিলের কনভেনশন (অ্যাপোস্টিল)। আইন বা প্রজ্ঞাপন সংশোধনের কারণে বিস্তারিত মানদণ্ড বদলাতে পারে। ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে পরামর্শের সময় যাচাই করে নিন।
সম্পর্কিত প্রশ্ন
F-6 বিবাহ অভিবাসী ভিসায় কী কাজ করা যায় এবং কী করা যায় না?F-6 বিবাহ অভিবাসীর অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন কখন থেকে, কোন কোন কাগজপত্র দিয়ে করতে হয়?আমি কি F-6 বিবাহ অভিবাসী ভিসা থেকে অন্য ভিসায় বদলাতে পারি?F-6 বিবাহ অভিবাসী যদি স্বামী/স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেন বা আলাদা থাকেন, তাহলে ভিসার কী হবে?F-6 বিবাহ অভিবাসী কয়েক মাসের জন্য নিজের দেশে ঘুরে এলে কি ভিসা বাড়াতে সমস্যা হয়?K-VISA AI আইন মন্ত্রণালয়ের ম্যানুয়াল, আইন ও সরকারি সংস্থার নির্দেশনার ভিত্তিতে গোছানো সাধারণ তথ্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ HiKorea বা বিদেশি তথ্য কেন্দ্রে (1345) করুন।
